বাংলা সিরিয়াল

পুরো দু বছর পর অপরাজিতার বাড়িতে আবারো ধুমধাম করে শুরু মা লক্ষ্মীর আরাধনা, চলুন দেখে নিই বাঁধা কাটিয়ে এ বছরের স্পেশালিটি কি

প্রতিবছর আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের শেষ পূনিমা তিথিতে কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। প্রতিটি বাঙালি পরিবারে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা সবথেকে সুন্দর একটি উৎসব। প্রত্যেক ঘরে ঘরে পালিত হয় এই পূজা। বিশেষ করে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির প্রত্যেক জন অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বাড়িতে এই পুজো বেশ জমজমাট উৎসব হিসেবেই পালিত হয়। অভিনেত্রী অপরাজিতার বাড়িতেও পূজো নিয়ে জমজমাটি পর্বে মেতে ওঠেন অভিনেত্রী। পর্দার লক্ষুকাকিমা, নিজের হাতেই সমস্ত আয়োজন করেন নিজের বাড়ির মেয়ে লক্ষ্মীর আরাধনার।

তবে গত দু’বছর অপরাজিতার বাড়ির লক্ষ্মীর আরাধনা বন্ধ ছিল। প্রথম বছর অভিনেত্রী কোভিড আক্রান্ত হওয়ায় লক্ষ্মীপূজো বন্ধ রাখা হয়েছিল। তার পরের বছর শ্বশুর মশাই মারা যাওয়ার কারণে ও বাড়ির পুজো বন্ধ হয়। কোভিড আক্রান্ত হওয়ার কারণে একেবারে সাধারণ ভাবে নিজেরাই মা লক্ষ্মীর আরাধনা করেছিলেন। কোন প্রকার ভোগ নির্মানও করেননি। তবে চলুন দেখে নেওয়া যাক এবারে কি বিশেষ প্ল্যান করেছেন অভিনেত্রী।

এক সংবাদ মাধ্যমকে অভিনেত্রী বললেন, “গত বছর শ্বশুর মশাই মারা গিয়েছিলেন, তার আগের বছর আমার করোনা হয়েছিল। দু’বছর লক্ষী পূজায় পুরোহিত আসতে পারেননি। এবার তিনি এসে পূজো করবেন। প্রতিবারের মতো এবারও প্রতিষ্ঠিত মা লক্ষ্মীর পূজা হবে। মাকে যেভাবে সাজানো হয় আজ সাজাবো। তারপর কাল পুজো হবে। গত দুবছর ভোগের ব্যবস্থা ছিল না কারণ আমরা নিজেরাই পুজো করেছিলাম। এবার ভোগও থাকবে। দু’বছর আগে যেভাবে পুজো করতাম, এবার ঠিক সেভাবেই হবে সব”।

এছাড়াও অভিনেত্রীর আরও সংযোজন, “এবার খিচুড়ি, লাবড়া, আলুর দম, পায়েস ইত্যাদি যা যা হয় লক্ষ্মী পুজোর ভোগ, সে সবই থাকবে। তবে আমি কিছুই করতে পারিনি, একদম সময় পাইনি। সবই শাশুড়ি মা করেছেন। আর ভোগ রান্নায় উনি কিছুটা করবেন এবং ভিয়েন আসবে। লক্ষ্মী পুজোয় আলাদা করে কারওকে নেমন্তন্ন করা হয় না। তবে যারাই জানেন বাড়িতে পুজো হয়, তাঁরা চলে আসেন।”

প্রসঙ্গত এই বছরের লক্ষীপূজো পড়েছে চলতেই মাসের ৯ই অক্টোবর। অক্টোবর, শনিবার রাত ৩/২৯/৪২ থেকে ৯ অক্টোবর রাত ২/২৫/৫ অবধি থাকবে পূর্ণিমা তিথি রয়েছে। এই তিথিতেই কোজাগরি লক্ষীর আরাধনা করার চিরন্তন নিয়ম রয়েছে হিন্দু বাঙালি পরিবারে। এছাড়াও মা লক্ষ্মীর আরাধনা প্রত্যেক সপ্তাহের বৃহস্পতিবার হিন্দু বাঙালি পরিবারে করা হয়ে থাকে। খারিফ শস্য ও রবি শস্য ঠিক যেই সময় হয়, ঠিক সেই সময় বাঙালি মেতে ওঠে লক্ষ্মীর আরাধনায়। এছাড়াও, শস্য সম্পদের দেবী বলে ভাদ্র সংক্রান্তি, পৌষ সংক্রান্তি, চৈত্র সংক্রান্তিতে এবং আশ্বিন পূর্ণিমা ও দীপাবলীতে লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়ে থাকে। তবে অবশ্যই মাস ভেদে এবং উদ্দেশ্য ভেদে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় বিশেষ পার্থক্য দেখতে পাওয়া যায়।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।