বাংলা সিরিয়াল

“আমি তো প্রথমে দেখে বুঝতেই পারিনি মানুষ মা ভবতারিণী সেজেছে!” – শ্রুতিকে মা ভবতারিণী রূপে দেখে চিনতে পারিনি নেটিজেনরা! অভিনেত্রী আর মেকআপ আর্টিস্টের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সোশ্যাল মিডিয়া

বাঙালির সবথেকে বড় উৎসব দুর্গোৎসব হয়ে গিয়েছে। তারপরে লক্ষ্মীপূজোও কেটে গিয়েছে বেশ কয়েকদিন। এবার হাতগোনা আর কয়েকটা দিন পরেই কালীপুজো। আর কালীপুজো আসলেই বাঙালি মানেই তাদের জমজমাট আলোর রোশনাই। এরই মধ্যে অভিনেত্রী শ্রুতি দাস তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে মা ভবতারিণীর ছবি পোস্ট করলেন। ছবি দেখে অনেকেই প্রণাম ঠুকেছেন। কারন সেটা দেখে একেবারেই বোঝা সম্ভব নয় যে সেটি অভিনেত্রীর নিজের ফটোশুট। আসল কালী ঠাকুরের মূর্তি নয়। অভিনেত্রী মেকআপ আর্টিস্ট মুক্তি রায়ের হাতের জাদুতে সেজে উঠেছেন মা ভবতারিণী রূপে।

প্রথমেই বললাম ছবি দেখে কেউ ধরতে পারেননি যে সেটি কোন কালী প্রতিমা নয়। ছবি পোস্ট করে অভিনেত্রী ক্যাপশনে লিখেছিলেন, “মা ভবতারিণী, বিশ্বজননী অনন্ত রূপিনী, সৃষ্টি স্থিতি প্রলয়কারিণী”। এত অবধি ক্যাপশনেও কিছুই বোঝা সম্ভব নয়। তবে চমক লাগলো এর পরের লাইনে। অভিনেত্রী তাঁর নিজের ক্যাপশনে আরও একটু লিখেছিলেন, “এটি কোনো মূর্তি নয়, মনুষ্য শরীরে মায়ের রূপদান। ভবতারিণী মায়ের রূপসজ্জা করেছেন মুক্তি রায়।বন্ধ নেত্রের ওপর চক্ষুদান করা হয়েছে।ভুল ত্রুটি মার্জনা করবেন। আপনাদের ভালোবাসা একান্ত কাম্য”। এরপরে অভিনেত্রী জানিয়েছেন তাঁর ফটোশুটের সম্পূর্ণ বিবরণ। এই ফটোশুটে অভিনেত্রীর সাথে শিব রূপে ছিলেন সুপ্রিয়। যাঁর হাতের জাদুতে মানুষকেও দেখে মনে হচ্ছে সত্যিকারের কালী তিনি হলেন মেকআপ আর্টিস্ট মুক্তি রায়। এছাড়াও ফটোশুটের পেছনে আরো একাধিক মানুষ ছিলেন যাঁদের হাতের জাদুতে সম্পূর্ণ ফটো শুট এত সুন্দর হয়ে উঠেছে। জানা গিয়েছে সম্পূর্ণ ফটোশুট সম্পন্ন হতে সময় লেগেছে ১৩ ঘণ্টা। এর মধ্যে নাকি ১১ ঘণ্টা সময় কেটেছে শুধু মেকআপ করতে।

যদিও সকলের এই ১৩ ঘণ্টার পরিশ্রম সাফল্য এনে দিয়েছে। প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে নেট পাড়া। এক নেটিজেন লেখেন, “অবিশ্বাস্য, ক্যাপশন না পড়লে বুঝতেই পারতাম না”। অন্য আরেক নেটিজেন লেখেন, “অনবদ্য সৃষ্টি গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। টিমকে কুর্নিশ”। এছাড়াও, “অবাক পানে তাকিয়ে দেখি এতো নিখুঁত কাজ ভাবা যায়”। “আমি তো প্রথমে দেখে বুঝতেই পারিনি মানুষ মা ভবতারিণী সেজেছে!” “একদম অবিকল আসলের মত। আমি তো প্রণামও করে ফেলেছি,তারপর ক্যাপশন দেখে অবাক! মেক আপ আর্টিস্টকে কুর্নিশ। ওনার ডেডিকেশনকে সম্মান জানাই।” সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসায় আপ্লুত হয়েছেন অভিনেত্রী তথা মডেল শ্রুতি। অভিনেত্রী বলেছেন, “আমার জীবনে এই অভিজ্ঞতা প্রথম। এগুলো আমার কাছে আশীর্বাদ। আমার মুক্তির উপর ভরসা ছিল, আমি জানতাম যে এই ভবতারিণীকে ও কোথায় নিয়ে যেতে পারে, সেটাই হয়েছে”।

প্রসঙ্গত অভিনেত্রী এক বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেন, “কালীপুজোর জন্য এই ফটোশ্যুট করে খুবই খুশি। আমি মহালয়াতে তিনবার কালী সেজেছি। সেটাই অভিজ্ঞতা আর এটার অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। এত ভালো শিল্পী মুক্তি যে তাঁর প্রস্তাব পাওয়ার পর আর কিছু ভাবিনি। আগের বছর বড়মা করে প্রচুর খ্যাতি পেয়েছিলেন। সেটা আমার করার কথা ছিল। ডেট ক্ল্যাশের কারণে সেটা করতে পারেনি তখন। ও মায়ের মুখের আদলে একটা মেয়ে খুঁজছিল যে নৃত্যশিল্পী হবে। ডান্সারদের অসীম ধৈর্য্য সেকারণেই ডান্সার খুঁজছিল আর সেই কারণেই আমাকে প্রস্তাব দেয়। ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা সেট মেকআপ করতে লেগেছে। আর শ্যুট করতে সময় লেগেছে ২ ঘণ্টা। খুব ভালো অভিজ্ঞতা”।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।