Stories

“এখন এর ধারাবাহিকে এত যে আরম্ভরতা তা তো সকলের পক্ষে সম্ভব নয়, এগুলি সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দেয়” – এখন এর ধারাবাহিক সম্পর্কে মুখ খুললেন জন্মভূমির পিসিমা ওরফে কিংবদন্তি অভিনেত্রী মিতা চ্যাটার্জী

বাংলা সিনেমা জগতের এক বর্ষিয়ান অভিনেত্রী হলেন মিতা চ্যাটার্জী। স্বর্ণযুগের অভিনেত্রীদের মধ্যে এই অভিনেত্রী এখনো আছেন আমাদের সকলের মধ্যে। বয়স ৮৬ হলেও কাজে তার কোন প্রভাব পড়েনি আজ পর্যন্ত। সেই ১৯৪৭ সাল থেকে বর্তমানের ধারাবাহিককেও কাজ করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। পুরনো প্রজন্ম থেকে নতুন প্রজন্ম সবার সাথেই দাপটের সাথে কাজ করছেন অভিনেত্রী। মোটকথা মিতা চ্যাটার্জী এই নামটি কিন্তু ভুলবার নয়। আজও জন্মভূমি ধারাবাহিকের পিসিমা রূপে মানুষ তাঁকে যথেষ্ট মনে রেখেছেন।

১৯৪৭ সালে শিশু শিল্পী হিসাবে প্রথমবার হেমেন বসু পরিচালিত ‘ ভুলি নাই’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন মিতা। মহানায়ক উত্তম কুমারের সাথে ‘ নবজন্ম’ এবং ‘ অন্নপূর্ণা’ সিনেমায় অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে এই অভিনেত্রীকে। কিন্তু তারপরেই নিজের ব্যক্তিগত জীবনে এক ভয়াবহ ঘটনা। তারপরে আবারো কাজে ফিরেন অভিনেত্রী। ডিডি বাংলার জন্মভূমি ধারাবাহিকে ছয় দিনের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীকালে সেই সুযোগ ছদিন থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৭ বছর। প্রথম জীবনেই নবমিতা চ্যাটার্জী থেকে মিতা চ্যাটার্জি হয়ে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। আর তারপরে জন্মভূমির পিসিমার চরিত্রে এক আজীবন ছাপ ফেলে রেখেছেন তিনি।

নতুন যুগে নতুন প্রজন্মের সাথে কাজ করতে ও পিছিয়ে যাননি তিনি। সম্প্রতি ত্রিনয়নী ধারাবাহিক এটাকে শেষবারের জন্য দেখা গিয়েছিল। কিন্তু করোনা কালীন পরিস্থিতির জেরে কাজের থেকে বিরতি নেন অভিনেত্রী। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, বর্তমান ধারাবাহিকে যতটুকু যা দেখানো হচ্ছে তা কি সমাজের পক্ষে অনুকূল? এই যে কোন অনুষ্ঠান হলে এত আরম্বরতা, একাধিক বিয়ে এ বিষয়ে কি বলবেন অভিনেত্রী? এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, “এর উত্তর সমাজসমীক্ষকরা ভালো করে দিতে পারবেন। সিরিয়ালের দৃশ্য ছোটোদের উপর বেশি প্রভাব ফেলে। আমরা ছোটো বেলায়, জামাটা খুব সুন্দর এটুকুই বলতে পারতাম। কিন্তু ওই জামাটাই যে চাই, সেই জেদ ছিলনা।”

এছাড়াও অভিনেত্রী আরো বলেন, “এখন যেভাবে টিভি সিরিয়াল গুলোতে ভালো বাড়ি, ভারী ভারী গয়না, ভালো সাজগোজ দেখানো হয়, বাস্তবে কি আমরা সেরকম থাকি? না থাকিনা। এই জিনিস গুলোই সাধারণ মানুষদের আকাঙ্ক্ষাকে বাড়িয়ে দেয়। তবে এটা ঠিক যে এটা বিনোদনের জন্য। কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবে বলতে পারি, আমার জন্য যদি কারোর ক্ষতি হয় তার জন্য দায়ী আমিই। এই ছোট মনগুলোকে পীড়িত করলে টিআরপি বাড়ে না কমে বুঝতে পারি না।”

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।