রাজ্য

শুভেন্দু জননেতা নন, শুধু একজন নেতা! শুভেন্দু সম্পর্কে বিস্ফোরক মন্তব্য বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষের

সুকান্ত পারেন না তবে আমি পারতাম বলেই লোকসভায় ভালো ফল করে বিজেপি! বিস্ফোরক মন্তব্য দিলীপ ঘোষের

বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ যেমন জনপ্রিয় তার বক্তব্যের কারণে তেমনই বিতর্কিত ও হন তার বক্তব্যের কারণে। অনেক সময় এমন কিছু বেফাঁস মন্তব্য করে বসেন বিজেপির এই নেতা যে কারণে তার মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। আসলে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা অনেক সময় অনেক কথা বলবার সময় সাত-পাঁচ ভেবে দেখেন না, কিন্তু না ভেবে দেখা এই সমস্ত কথা গুলি রাজনীতির অন্দরে ভীষণভাবে প্রভাব ফেলে। সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী কে নিয়ে তিনি এমন একটি মন্তব্য করেছেন যা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।

অর্জুন সিং সদ্যই বিজেপি ছেড়ে আবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব তাই শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া হয়েছে। নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার পদটিও সামলাচ্ছেন। একই সাথে ব্যারাকপুরের জেলার দায়িত্ব‌ও তাকে দেখতে হচ্ছে। এই অবস্থায় শুভেন্দু অধিকারী জননেতা নন বলে মন্তব্য করে বসেন দিলীপ ঘোষ, যা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন, “শুভেন্দু কোন জননেতা নন শুধু মেদিনীপুরের নেতা। মেদিনীপুরে বিরোধী দলনেতার জনপ্রিয়তা থাকলেও অন্য জেলায় সেভাবে নেই।” দিলীপ ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, শুভেন্দু কে জননেতা হিসেবে মানতে তিনি নারাজ, গোটা বাংলার সংগঠন সামলে নেবেন শুভেন্দু এটা তিনি মনে করেন না।

বর্তমানে বিজেপি রাজ্য সভাপতির দায়িত্বে আছেন সুকান্ত মজুমদার, দলের সাংগঠনিক দিকটি তিনিই দেখছেন। কিন্তু তাতেও উন্নতি খুব একটা কিছু চোখে পড়ছে না। একের পর এক নির্বাচনে ভরাডুবি হওয়ার সাথে সাথে বিজেপি ছেড়ে নেতা-নেত্রীরা মুড়ি-মুড়কির মতো যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসে। মেদিনীপুরের সাংসদ দলছুটের প্রসঙ্গে বলেন, “আরো কয়েকজন যেতে পারে। সময় বলবে কে যাবে।” সুতরাং তার ধারণা অনুযায়ী বঙ্গ বিজেপি তে আরো ভাঙ্গন ধরবে। আজ বিজেপির কোর কমিটির বৈঠকের ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন দিলীপ ঘোষ সেখানে এই বিষয়ে কিভাবে উঠে আসবে সেটাই এখন দেখার।

বঙ্গ বিজেপির এই খারাপ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠছে যে, তাহলে সুকান্ত মজুমদার কি পারছেন না দলের সাংগঠনিক হাল ফেরাতে? এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের সোজাসাপ্টা উত্তর, “সুকান্ত ভালো মানুষ হলেও চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারেন না। আমি চোখে চোখ রেখে কথা বলতাম তাই লোকসভা নির্বাচনের ফল ভালো হয়েছিল, সংগঠন ও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। এখন সংগঠন দিনকে দিন দুর্বল হচ্ছে।”

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।