রাজ্য

আমার মত অনেক ছেলেকে নষ্ট করছিস তুই! তোর পরিণতি ভয়ংকর হবে! হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ ভয়ঙ্কর পরিণতির কথা আগেই জানিয়েছিল সুশান্ত

বহরমপুরে ছাত্রী খুনের পর প্রতি মুহূর্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তদন্তকারীদের কাছ থেকে। প্রেমে বিশ্বাসভঙ্গের পর সুতপা চৌধুরীর খুন করে তার‌ই পূর্ব প্রেমিক সুশান্ত চৌধুরী। জানা যায় বিগত কয়েক মাস ধরে তাকে এড়িয়ে চলছিল সুতপা, এর ফলেই প্রতিহিংসার বশে তাকে খুন করে সুশান্ত! মেধাবী ছাত্র থেকে একলহমায় খুনিতে পরিণত হ‌ওয়া সুশান্ত চৌধুরী কিন্তু তার মনের মধ্যে পুষে রাখা ক্ষোভ, প্রতিহিংসা, ঘৃণার আঁচ দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ করে আসছিলেন বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে। এমনকি তদন্তকারীদের হাতে সাম্প্রতিককালে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী খুন করার কিছুদিন আগেও সুশান্ত সুতপাকে যে বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন তাতেও সুতপার ভয়ঙ্কর পরিণতি ঘটানোর কথাই উঠে এসেছিল, যদিও সেই মেসেজ পরেও কোন রিপ্লাই করেননি সুতপা।

বিগত এক বছর ধরে নিজের ফেসবুক ওয়ালের পোষ্ট জুড়ে শুধুই ঘৃণা ও প্রতিহিংসার বার্তা ছড়িয়েছিল সুশান্ত। যদিও তার আগে সুশান্তের ফেসবুকে পোস্ট করা হতো শুধুই প্রেমের কথা ছবি ও ভিডিও। যা দেখে তদন্তকারীরা অনুমান করছেন বিগত এক বছর ধরে তার মধ্যে একটা অস্থিরতা এসেছিল। তবে শুধু ফেসবুক পোস্টে নয় সুতপাকে পাঠানো হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজেও ভয়ঙ্কর পরিণতির হুমকি দিয়েছিলো সুশান্ত।

মেসেজে সুতপাকে সুশান্ত লিখেছিলো,“মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে আমি। স্বপ্ন দেখি সুন্দর জীবনের। কিন্তু আমার জীবন তুই নষ্ট করে দিচ্ছিস। বিশ্বাস করতে পারছিনা তোকে। তুই নষ্ট করছিস আমার মতন অনেককেই। এভাবে চলতে থাকলে ভয়ঙ্কর পরিণতি হবে তোর।” এই মেসেজের কথা সুতপার পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন‌ও জানতেন। তার কথায়,“ সুশান্ত রীতিমতো হুমকি বার্তায় পাঠিয়েছিল সুতপাকে। শুধু একদিন নয় দিনের পর দিন এমন বার্তা পাঠাতো। সুতপা ওর বাবা মাকে বলেছিল পুলিশকে জানাতে।”

অন্যদিকে সুশান্তের পরিবারের লোকজনের দাবি, সুন্দরী হওয়ার কারণে একাধিক পুরুষের সাথে সম্পর্ক ছিল সুতপার, একইসাথে সুশান্তকেও উস্কানি দিতো সে। সুশান্তের একজন বন্ধুও নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “ সুতপাই প্রথম প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল আমার বন্ধুকে। প্রথমে সুশান্ত এড়িয়ে গিয়েছিল তারপর নিজের জীবনকে বাজি রেখে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল আর তখন থেকেই এড়িয়ে যেতে থাকে সুতপা। ছোট থেকেই শৃঙ্খলার মধ্যে বড় হয়েছে সুশান্ত, বাবাকে ভীষন ভয় করত। একসময় সুতপার মা সুশান্ত-সুতপার সম্পর্কের কথা জেনে যান, তখন সুশান্তের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে সকলের সামনে হুমকি দিয়ে আসেন।” যদিও তাদের সম্পর্কের শেষের দিকের বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না বলেই জানিয়েছেন।

তদন্তকারীদের সুশান্ত বলেছে, সুতপার এক বান্ধবীর কাছ থেকে সে সমস্ত তথ্য পেতো, তার কাছ থেকেই সে জানতে পারে সম্প্রতি একটি তরুণের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল সুতপার। জঙ্গিপুর কলেজের সেই ছাত্রের সাথে খুনের দিন মোহন শপিংমলে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলো সুতপা। এটি জানতে পেরেই সুতপাকে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে সুশান্ত। যদিও তদন্তকারীদের ওই তরুণ জানিয়েছে তার সাথে সুতপার শুধুই বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।