টলিউড

অনুব্রত মণ্ডলকে মেরে ফেলা হতে পারে-বিস্ফোরক দাবি দিলীপ ঘোষের

বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের এখন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচির মতো অবস্থা। উভয় দিক থেকে সাঁড়াশি আক্রমণে কার্যত চুপসে গিয়েছেন এককালের দাপুটে নেতা কেষ্টদা। গরু পাচার মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় অনুব্রত মণ্ডলকে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছেন সিবিআই! কীভাবে এই মামলার থেকে বাঁচবেন তা নিয়েই যখন চিন্তিত তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তখন‌ই অনুব্রত মণ্ডলের প্রাণহানির আশঙ্কা আছে বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন বিজেপির নেতা দিলীপ ঘোষ।

বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি দিলীপ ঘোষ অনুব্রত মণ্ডলকে মেরে ফেলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন! দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, অনুব্রত মণ্ডল বর্তমানে এমন কিছু মামলার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন যেগুলির সাথে শাসকদলের আরো বহু নেতা যুক্ত তাই সমস্ত তথ্য প্রমাণ লোপাট করার জন্য অনুব্রত মণ্ডল কে মেরে ফেলা হতে পারে বলে দাবি করেন বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ।

সোমবার সকাল বেলায় হাঁটতে বেরিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, এর থেকে অনুব্রত মণ্ডলের জেলে থাকা ভালো তাতে অন্তত প্রাণ টা বাজবে। তবে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি এহেন মন্তব্য করার আগে আরেক বিজেপি বিধায়ক‌ও কিন্তু অনুব্রত মণ্ডল কে নিয়ে এক‌ই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। কিছুদিন আগেই বনগাঁ দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক স্বপন মজুমদার ও অনুব্রত মণ্ডল কে মেরে ফেলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, “অনুব্রত মণ্ডল কে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলা হতে পারে।” স্বাভাবিকভাবেই তার এই কথা নিয়ে সেইসময় বিতর্ক সৃষ্টি হয়, বর্তমানে সেই বিতর্ক‌ই যেন আরো একবার উস্কে দিলেন দিলীপ ঘোষ।

সোমবার নিউটনের ইকোপার্কে অনুব্রত মণ্ডলের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, “ওনার খালি সিবিআই দেখলেই শরীর খারাপ হয়ে যায়, তবে এইভাবে তো বেশিদিন চালানো যায় না, আজ হোক, কাল হোক যেতে তো হবেই।” তবে হাসপাতালের থেকে ওনার কাছে জেল নিরাপদ বলে দাবি করেন এই দিন বিজেপির দাপুটে নেতা। তার কথায়, “কিন্তু আমার যেটা সন্দেহ হচ্ছে, হয় ওনাকে সারা জীবন হাসপাতালে থাকতে হবে, না হলে জেলে থাকতে হবে। জেলে থাকলে ঠিক আছে কিন্তু হাসপাতালে থাকলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম। এখন যেটা আমার মনে হচ্ছে যে ভাবেই হোক তাকে মেরে ফেলা হতে পারে।”

তার এমন বক্তব্যের পিছনে কারণ কী তাও ব্যাখ্যা করেছেন দিলীপবাবু। তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন,“ তথ্য লোপাট করার জন্য এটা করা হতে পারে। বিভিন্ন ঘটনার সাথে তিনি যুক্ত আর তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা এসবের সাথে যুক্ত আছে। আমার মনে হয় একটা চাবিতেই সব ঘর খোলা যাবে। তাই চাবিটা হারিয়ে ফেলায় ভালো। সেই জন্য আমাদের এখন নতুন চিন্তা এটা। লোকটা জেলে গেলে প্রাণটা থাকবে, নয়তো খুব সম্ভাবনা আছে না বেঁচে থাকার।” বিজেপি সাংসদের এই বিস্ফোরক মন্তব্য করার পরেও এখনো অবধি তৃণমূলের তরফ থেকে কেউ কোনো বক্তব্য রাখেন নি বলেই খবর।

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।